১৭ বৈশাখ, ১৪৩৩

৩০ এপ্রিল, ২০২৬

অনলাইন জুয়া : ক্লিক করলেই সর্বনাশ

মো: ইবাদুর রহমান প্রকাশিত: মে ১৩, ২০২৫, ৪:২৫ অপরাহ্ন
অনলাইন জুয়া : ক্লিক করলেই সর্বনাশ
 
 
প্রতিদিন ভোর হয়, সূর্যের আলোয় পৃথিবী আলোকিত হয়। আবার অন্ধকার নেমে আসে, শুরু হয় রাত। রাতের অন্ধকার ছাড়াও আরও অন্ধকার জগৎ আছে। অন লাইনে জুয়া সে রকম একটি অন্ধকার জগত। তরুন, যুবক, এমনকি মধ্যবয়সী ব্যক্ত পর্যন্ত এই অন্ধকার জগতে নিমজ্জিত।
 
স্মার্ট ফোনের ব্যাপক ব্যবহারের ফলে অন লাইন জুয়ার জগত এখন ঘরে বাইরে, চায়ের দোকান, কর্মজীবীর অফিস সর্বত্র। এই জুয়ায় অন লাইনে অংশগ্রহণ করে বিকাশ, নগদ, রকেট এর মাধ্যমে টাকা দিয়ে খেলে থাকে। বিধায় পারিবারিক ভাবে ধরা পড়ার সম্ভাবনা কম। জুয়ার সবচেয়ে জনপ্রিয় সাইট গুলো হলো, স্পোর্টস বেটিং, ক্যাসিনোগেম, লটারি, পোকার বিঙ্গো ইত্যাদি।
 
আকর্ষনীয় বিজ্ঞাপন বা শখের বসে একবার ঢুকে পড়লেই ধ্বংস। কারণ প্রথমে খেলোয়াড়দের বিনামূল্যে ওয়েলকাম বোনাস দিয়ে প্রলুব্ধ করা হয়। পরবর্তীতে সে যখন বাজি ধরে তখন জিতে দেয়। তারপর আরও বেশি টাকা পাওয়ার আশায় বেশি টাকা বাজি ধরে এবং ধীরে ধীরে ধ্বংসের দিকে ধাপিত হয়। ফলাফল পারিবারিক ও মানসিক বিপর্যয়, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকট, অপরাধ মূলক কাজের প্রসার ও আত্মহত্যার হার বৃদ্ধি পায় যা অনেকেই জানতেই পারে না।
 
আমার এক আত্মীয় যারা দুই ভাই মিলে ফ্লেক্সিলোডের ব্যবসা করে সুন্দর জীবনযাপন করে। হঠাৎ বড় ভাই জানতে পারে ব্যবসার মূলধন থেকে ১০ লক্ষ টাকা নাই। ঝগড়া ঝাটি পারিবারিক কলহ এমনকি স্বামী-স্ত্রীর বিচ্ছেদ ঘটার মত ঘটনা সৃষ্টি হয়। যার মূলে ছিল এই অনলাইন জুয়া এরকম আরেকটি আত্মীয়র ঘটনা চলমান যিনি প্রায় চারলক্ষ টাকা জুয়ায় হেরেছে। জুয়ায় হারার পর সংসারে অশান্তি সৃষ্টি, আত্মহত্যা ও সামাজিক বিভিন্ন অপরাধ এখন আকাশ ছোঁয়া।
 
বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে জুয়া সম্পূর্ন নিষিদ্ধ। ১৮৬৭ সালের পাবলিক গামলিং আইন অনুসারে জুয়া খেলা দন্ডনীয় অপরাধ। তাছাড়া তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনেও সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে। অনলাইনে জুয়া সরাসরি  কোনো ক্যাসিনো বা জুয়ার আসরের মতো দৃশ্যমান নয়। তবে অনলাইন জুয়ার মাস্টার এজেন্টদের বিরুদ্ধে অভিযান খুবই জরুরী। গত মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়। ওই রিটের শুনানি শেষে আদালত রূল জারি করেছে ৩০ দিনের মধ্যে অনলাইনে জুয়ার বিজ্ঞাপন, প্রচার এবং আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত পূর্বক গৃহীত পদক্ষেপের বিষয়ে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। কিন্তু ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব, তথ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন সচিব, সহ সংশ্লিষ্ট গন কোনো আইনি পদক্ষেপ গ্রহন করেছেন, বলে খবর জাতীয় বা দৈনিক পত্রিকায় চোখে পড়েনি।
 
বিভিন্ন পত্র পত্রিকার তথ্যমতে ৫০ লাখ লোক অনলাইন জুয়ায় আসক্ত, যা সমাজের অর্থনৈতিক কাঠামো, পারিবারিক বন্ধন ও যুবসমাজকে ধ্বংস করছে। এখনই কঠোর ব্যবস্থা না নিলে বাংলাদেশ এক জুয়াড়ি জাতিতে পরিণত হবে। তাই রাষ্ট্রের উচিত আইন প্রয়োগ পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যেন অনলাইন জুয়া খেলার সাইট বা লিংকে প্রবেশ করা না যায় তা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় এর পরিনাম ভয়াবহ হতে বাধ্য।
 
লেখক
মো: ইবাদুর রহমান
প্রভাষক (বাংলা বিভাগ) 
জাহিদুর রহমান মহিলা ডিগ্রী কলেজ।
ebadur2017@gmail.com