বগুড়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এন সি পি)’র জুলাই পদযাত্রায় অংশ নিয়ে সংগঠনটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আপনাদের পুরোনো খেলায় আমরা অংশ গ্রহণ করবোনা, আমরা পুরোনো খেলায় কোনো নতুন প্লেয়ার হতে আসিনাই, আমরা খেলার নিয়ম বদলাতে এসেছি। এই দিন দিন নয়, সামনে আরো দিন আছে। এই বগুড়ায় কোনো দলবাজ প্রশাসনের স্থান হবেনা, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও আদালতসহ সকল দপ্তরগুলোকে নিরপেক্ষ আচরন করতে হবে।
তিনি শনিবার দুপুরে বগুড়া শহরের জিরোপয়েন্ট সাতমাথায় মুক্তমঞ্চে আয়োজিত পথসভায় এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক বৈষম্যের প্রতিবাদেই গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল। তাই আর কোনো বৈষম্যে মেনে নেয়া হবেনা। এই অঞ্চল একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক অঞ্চল এমন একটি অঞ্চলের মানুষকে ১৭টি বছর বঞ্চিত করা হয়েছে। বগুড়ার কথা শুনলে কোনো চাকরি দেয়া হয়নি, এমনকি কোথাও স্থান পর্যন্ত দেয়া হয়নি। আমরা বগুড়ায় এসে শুনতে পেয়েছি এই বগুড়ার প্রশাসন নিরেপেক্ষ আচরণ করছেনা।
২৪ এর গণ অভ্যুস্থানের পরে আর কোনো পক্ষ নিয়ে বৈষম্যেমূলক আচরন করা যাবেনা। তাই এই প্রশাসনকে সতর্ক করে বলছি, আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলের মতো দলবাজ প্রশাসনের কী অবস্থা হয়েছে। তাদের মত যারাই আচরণ করবে তাদের পরিনতিও ফ্যাসিবাদী মুজীববাদীদের মতোই হবে। ২০১৮ সালে যারা ডিসি ছিল, যারা ওই সময় ভোট ডাকাতি করেছে, তাদের পরিনতি আপনারা নিশ্চয়ই দেখতে পাচ্ছেন। তাই সময় থাকতে কোনো দলের পক্ষে না নিয়ে গণমানুষের পাশে থাকুন।
সহ-মূখ্য সমন্বয়ক (উত্তরাঞ্চল) সাকিব মাহদীর সভাপতিত্বে এবং বগুড়ার যুগ্ম মূখ্য সংগঠক আব্দুল্লাহিত তাকির সঞ্চালনায় এসময় অন্যান্যের মাঝে উপস্থিত ছিলেন সদস্য সচিব আখতার হোসেন, উত্তরাঞ্চল মূখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম, দক্ষিন অঞ্চলের মূখ্য সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্রাহ, মূখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, সদস্য সচিব ডাঃ তাসনীম জারা, যুগ্ম সদস্য সচিব নাহিদা সাওয়ার নিভা, অনিক রায়, সাইফ মুস্তাফিজ, মনিরা শারমিন, মাহিন সরকার, সাইফুল্লাহ হায়দার, আবু সাঈদ লিওন, খালেদ সাইফুল্লাহ, লুৎফর রহমান, নীলিমা দোলা, আরিফুর রহমান তুহিন, মুশফিক সালেহীনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
এর আগে শনিবার সকালে বগুড়া পর্যটন মোটেলে সাংবাদিকদের সাথে এক মত বিনিময় সভায় অংশ নেন এনসিপি নেতারা।
এসময় নাহিদ ইসলাম বলেন, যারা গণহত্যা করেছে, আমরা তাদের বিচার করবো। এই বাংলার মাটিতেই শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ ও যেসব পুলিশরা গুলি চালিয়ে আমাদের ভাইদের মেরেছে, আমরা তার বিচার নিশ্চিত করবো। এদেশে বিচার ও সংস্কারের পরেই নির্বাচন হবে। এনসিপি নেতৃবৃন্দ শহীদ পরিবারের সদস্যদের সাথেও মতবিনিময় করেন। পরে বগুড়া পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের সামনে থেকে পদযাত্রা করে সাতমাথায় পৌঁছেন।
বৃষ্টিতে ভিজে নেতাকর্মিরা পদযাত্রায় অংশগ্রহন করেন।