১৪ বৈশাখ, ১৪৩৩

২৭ এপ্রিল, ২০২৬

কৃষকরা দুশ্চিন্তায়

সারিয়াকান্দিতে বৃষ্টিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধি: প্রকাশিত: নভেম্বর ৩, ২০২৫, ১১:২৭ পূর্বাহ্ন
সারিয়াকান্দিতে বৃষ্টিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

 

বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলায় গত তিনদিনের দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টিতে আধাপাকা রোপা আমন ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বাতাসে নুয়ে পড়েছে আধাপাকা আমন ধানের গাছ। এতে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন আমন চাষিরা। পাশা-পাশি বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি, পেঁয়াজ, ভুট্টা, সরিষা, মসুর, খেসারি এবং চিনাবাদাম ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সারিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে উপজেলার ১৩ হাজার হেক্টর আমন ধানের মধ্যে ২৬০ হেক্টর আমন ধান, দুই হাাজর ৫৯০ হেক্টর মরিচের মধ্যে ৪০ হেক্টর মরিচ, ৩০ হেক্টর বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি, ১০ হেক্টর ভুট্টা, এক হেক্টর পেঁয়াজ, ১৫ হেক্টর সরিষা, পাঁচ হেক্টর মসুর, পাঁচ হেক্টর খেসারি এবং দুই হেক্টর জমির চিনাবাদাম অতিবৃষ্টির কারণে পানিতে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, আধাপাকা আমন ধানের শীষ মাটিতে নুয়ে পড়ে পানিতে ডুবে রয়েছে। এতে ফলন ও গুণগত মান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। অতিবৃষ্টির কারণে উপজেলার চরাঞ্চলের সদ্য বেড়ে ওঠা বা কোথাও হারভেস্টিং শুরু হওয়া মরিচ গাছের ক্ষেতেও পানি জমেছে।

কোথাও মরিচ গাছ হেলে পড়েছে। কোথাও বাতাসে মরিচ গাছের ডাল ভেঙে পড়েছে, কোথাও আবার পচারি ধরেছে। তবে আগামভাবে যেসব জমিতে কৃষকরা সরিষার আবাদ করেছিলেন সেইসব জমির সদ্য বেড়ে ওঠা সরিষার গাছ বৃষ্টিতে মাটির সাথে নেতিয়ে পড়েছে এবং এসব সরিষা গাছ নষ্টের আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।

সারিয়াকান্দি উপজেলা ফুলবাড়ি ইউনিয়নের এলাকার আমতলী গ্রামের কৃষক আব্দুল মজিদ, দেড় বিঘা জমিতে আমন চাষ করেছেন। সপ্তাহ দুয়েক পর ধান কাটার কথা ছিল। তিনি বলেন, ‘কষ্ট করে ধান চাষ করে কাটার সময় হলো, তখনই বৃষ্টিতে পাকা ধান নষ্ট হয়ে গেল। জমিতে পানি জমে শীষ ভিজে যাচ্ছে। কৃষি কর্মকর্তা পরামর্শে ধান গুলো গোছা করে বেধে দিয়েছি। 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, উপজেলা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে  কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, যেসব ধানের গাছ নুয়ে পড়েছে সেগুলো গোছা করে বেঁধে রাখতে; এতে ক্ষতি কিছুটা কমবে। যেসকল আবাদী জমিতে পানি জমে আছে সেসব জমি থেকে কৃষকেরা জেনও দ্রুত পানি নিষ্কাশন করে এ পরামর্শ কৃষকের মাঝে পৌছায়ে দিচ্ছি। আমি নিজে ক্ষতিগ্রস্ত জমি পরিদর্শন করছি এবং কৃষকদের মাঝে পরামর্শ দিচ্ছি। এছাড়াও প্রতিটি ইউনিয়নের উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের সাথে মাঠে কাজ করছে। এতে করে ক্ষতির পরিমাণ কমে আনা যাবে।