বগুড়ার গাবতলী উপজেলার তোজাম্মেল হোসেন (৪৫) হত্যাকান্ডের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার রায়ে তিনজনের ফাঁসি এবং অপর তিনজনের যাবজ্জীবন কারাদন্ডাদেশ দিয়েছে আদালত।
মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) দুপুরে বগুড়ার সিনিয়র দায়রা জজ মোঃ শাজাহান কবীর এই রায় দেন। মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি মাজেদুর রহমান পিন্টু আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বাকি আসামিরা পলাতক থাকায় গ্রেফতারের পর তাদের সাজা কার্যকর হবে বলে আদালত জানিয়েছেন। রায়ে প্রত্যেক আসামির এক লাখ টাকা করে জরিমানার আদেশ দেওয়া হয়।
মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত আসামিরা হলেন-মনিরুজ্জামান ওরফে মিশু (৩০), বাবুল প্রাং ওরফে আবুল কালাম আজাদ (৩৫) ও মানিক (৩২)। যাবজ্জীবন কারাদন্ড প্রাপ্তরা হলেন-দেলোয়ার হোসেন দলু (৬৮), পিন্টু ওরফে মাজেদুর রহমান (৪৬) ও আশিক (৩০)। এছাড়া রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় শান্ত নামের এক আসামিকে বেকসুর খালাস দেন আদালত।
জানা যায়, ২০১৭ সালের ২৭ নভেম্বর বিকেলে আসামিরা গাবতলীর দুর্গাহাটা ইউনিয়নের বৈঠাভাঙা মোড়ে মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে তোজাম্মেল হোসনেকে হত্যা করে। তোজাম্মেল হোসেন গাবতলীর দুর্গাহাটা ইউনিয়নের নিজপাড়া গ্রামের মৃত ওসমান মোল্লার ছেলে। দীর্ঘ ৮ বছর পর আদালতের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন নিহতের পরিববার।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি)ু এ্যাডভোকেট আব্দুল বাছেদ বলেন, ২০১৭ সালের ২৭ নভেম্বর বিকেলে এই হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী তোজাম্মেল হোসেন সেদিন এক আত্মীয়ের বিয়ের দাওয়াত খেয়ে ফেরার পথে চারমাথা মোড়ে ওঁৎ পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা তাকে এলোপাতাড়িভাবে রামদা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। জমি সংক্রান্ত বিরোধ ও পূর্ব শত্রæতার জের ধরেই এ হত্যাকান্ড ঘটে। নিহতের বড় ভাই মমিন মামলার বাদী হিসেবে অভিযোগ দায়ের করেন। মামলার তদন্তে সিআইডির তৎকালীন ইন্সপেক্টর সকির উদ্দিন ১১ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। এই রায়ে নিহতের পরিবার সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।