আগামীকাল বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিতব্য বগুড়া-৬ সদর আসনের নির্বাচনে সরকারি দল বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ আবিদুর রহমান সোহেল রিটার্নিং অফিসারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেছেন, রিটার্নিং অফিসার নিরপেক্ষ ভাবে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। লিখিতভাবে একাধিকবার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দিলেও তিনি তা আমলে নেননি। তিনি একটি দলের পক্ষে কাজ করছেন। বুধবার দুপুরে শহর জামায়াত কার্যারয়ে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।
আবিদুর রহমান সোহেল লিখিত অভিযোগে বলেন, “বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। আমরা এই উপনির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছি একটি অবাধ সুষ্ঠু ও গণতান্ত্রিক প্রতিদ্বন্দিতাপূর্ণ পরিবেশে ভোট অনুষ্ঠানের আশায়। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, সরকারি দলের প্রভাবে নির্বাচনী পরিবেশ ততই কলুষিত ও ভীতিকর হয়ে উঠছে। আমরা লক্ষ্য করছি, নির্বাচন কমিশন এর নিযুক্ত রিটার্নিং অফিসার নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের পরিবর্তে একটি নির্দিষ্ট দলের পক্ষে নিরবে সহায়তা করে যাচ্ছেন। বার বার নিরপেক্ষ লোকদের প্রিজাইডিং অফিসার সহ নির্বাচনের সকল কর্মকর্তা নিয়োগের দাবী জানানো স্বত্ত্বেও তিনি সরকারি দলের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে প্রিজাইডিং অফিসার সহ সকল নির্বাচন কর্মকর্তা নিয়োগ দান করেছেন। এমতাবস্থায় একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের পথে অন্তরায় হতে পারে এমন সুনির্দিষ্ট কিছু তথ্য তুলে ধরছি।
১। পক্ষপাতদুষ্ট প্রিজাইডিং অফিসার নিয়োগ:
অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক এমন ব্যক্তিদের প্রিজাইডিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যারা সরাসরি সরকারি দলের পদধারী বা সক্রিয় সমর্থক। এটি নির্বাচনের নিরপেক্ষতাকে শুরুতেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। উল্লেখ্য যে, ১৫০ টি কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসারের তালিকা প্রদানের দাবী প্রায় ১০ দিন আগে করা হলেও রিটার্নিং অফিসার তা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। আমরা বিভিন্নভাবে প্রিজাইডিং অফিসারদের তথ্য পেয়ে এর মধ্যে ১৬ জনের বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে প্রমানকসহ রিটানিং অফিসারের কাছে অভিযোগ দাখিল করেছি। রিটার্নিং অফিসারের এহেন অস্বচ্ছ এবং দলীয় পদধারী লোকদের নির্বাচনে নিয়োগদানের জন্য তীব্র নিন্দা এবং সকল প্রিজাইডিং অফিসারসহ নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত এমন দলীয় লোকদেরকে নির্বাচন থেকে বিরত রাখার দাবী জানাচ্ছি।
২। সরকারি কর্মকর্তাদের আচরণবিধি লঙ্ঘন:
মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের সরকারি চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা প্রকাশ্য দিবালোকে সরকারি দলের প্রার্থীর পক্ষে মিছিলে অংশ নিচ্ছেন। সরকারি বেতনভুক্ত কর্মচারী হয়েও তারা যেভাবে নির্বাচনী প্রচারণায় লিপ্ত হচ্ছেন, তা সরকারি চাকুরি-শৃংখলা ও আচরণবিধির চরম লঙ্ঘন। এছাড়াও আমরা জানতে পেরেছি যে, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীদেরকে সরকার দলীয় প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় নামতে বাধ্য করা হয়েছে। এ এখনো কোন দৃশ্যমান পদক্ষেপ পরিলক্ষিত হয়নি।
৩। ভীতি প্রদর্শন ও হয়রানি:
গ্রামে গ্রামে আমাদের নেতা-কর্মী এবং সাধারণ ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। সাধারণ ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার জন্য পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ হুমকিসহ নানা ভাবে নির্বাচনের পরিবেশ বিঘ্নিতি করার চেষ্টা চলছে।”
জামায়াত প্রার্থী সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশনের প্রতি কিছু দাবী ও সুপারিশমালা তুলে ধরেছেন। সেগুলো হলো-
১। সকল দলীয় পদধারী ও পক্ষপাতদুষ্ট প্রিজাইডিং অফিসারসহ অন্যান্য নিয়োগকৃত নির্বাচনী কর্মকর্তাদের অবিলম্বে অপসারণ করতে হবে। তাদের স্থলে নির্দলীয় সৎ ও নিরপেক্ষ কর্মকর্তাদের নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
২। ভোটকেন্দ্রে নিয়োজিত প্রিজাইডিং, সহকারী প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসারদের কর্মকাণ্ড ও গতিবিধি স্বচ্ছ রাখার স্বার্থে পুরো ভোটদান প্রক্রিয়াকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনতে হবে।
৩। প্রিজাইডিং অফিসারদের ভোট শুরুর আগে থেকে ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত সকল তথ্য ও নথিপত্র বিধিমোতাবেক পোলিং এজেন্টদের সরবরাহ করতে বাধ্য থাকতে হবে। কোনো অবস্থাতেই এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া যাবে না।
৪। ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে কোনো প্রকার জটলা, মিছিল বা ভোটারদের প্রভাবিত করার কার্যক্রম কঠোরভাবে দমন করতে হবে। প্রচারপত্র বিলি বা অন্য কোনো মাধ্যমে ভোটারদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা যাবে না।
৫। নির্বাচনের আগের রাতে গ্রামে গ্রামে অবৈধ টাকা বিলি ও ভোটারদের প্রভাবিত করার আশঙ্কা রয়েছে। এটি রুখতে বিশেষ নিরাপত্তা টহল জোরদার করতে হবে।
৬। পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কোনো নির্দিষ্ট দলের হয়ে কাজ না করে সাধারণ ভোটারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। বর্তমানে প্রশাসন ও আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের ভূমিকা দৃশ্যমান হলেও ভোট শেষ না অবধি আরো কঠোরভাবে অব্যাহত রাখতে হবে।
৭। নির্বাচনের দিন ভোট কেন্দ্রে এবং বাইরে যেকোন মব প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে যথেষ্ট নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতি এবং তাৎক্ষণিক বিচারিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।”
উত্থাপিত দাবী সমূহ পূরণ না হলে এবং নির্বাচনে অনিয়ম হলে বোট বর্জন করবেন কি না? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আবিদুর রহমান সোহেল বলেন, “একটি নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রত্যাশায় আমরা উপনির্বাচনে অংশ নিয়েছি। ভোট বর্জনের কোন ইচ্ছা নাই। আমরা জনগণকে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করার সুযোগ দিতে চাই। নিবাচন কমিশন তার নিরপেক্ষতা প্রমাণ করে একটি অবাধ, সুষ্ঠ, নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিবে এই প্রত্যাশা আমরা করছি।”
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন, উিপনির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ও শহর জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যাপক আ.স.ম আব্দুল মালেক, সদস্য সচিব ও জেলা নায়েবে আমির আব্দুল হাকিম সরকার, অধ্যাপক রফিকুল আলম, আল-আমিন, ইকবাল হোসেন, আব্দুস ছালাম তুহিন, শাহীন মিয়া প্রশূখ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।