নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় বগুড়ায় মহান মে দিবস ও আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস পালন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে শুক্রবার (১ মে) সকালে জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন, সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং রাজনৈতিক দলগুলোর শ্রমিক সংগঠন বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করে।
সকাল থেকেই শহরের বিভিন্ন স্থানে শ্রমিক সংগঠনগুলোর উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিগুলো শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে সমাবেশে মিলিত হয়। এসময় শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য অধিকার, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং ন্যায্য মজুরির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
এদিন জেলা প্রশাসক চত্বর বটতলা থেকে একটি বর্নাঢ্য ব্যালী বের হয়। র্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এসে শেষ হয়। এরপর দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বগুড়া জেলা প্রশাসক মোঃ তৌফিকুর রহমান বলেন, দেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় শ্রমিকদের অবদান অপরিসীম। তাই তাদের জীবনমান উন্নয়ন ও কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সময়ের দাবি।
বেলা ১১টায় জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল বগুড়া জেলা শাখা শহরে বর্ণাঢ্য র্যালি বের করে। র্যালি শেষে সাতমাথায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি আব্দুল ওয়াদুদ এর সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বগুড়া-৬ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য মোঃ রেজাউল করিম বাদশা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, মহান মে দিবস শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের এক ঐতিহাসিক দিন। শ্রমিকদের সম্মান ও অধিকার নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর। কারো কথায় বিভ্রান্ত না হয়ে সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে। এসময় আরও বক্তব্য রাখেন জেলা পরিষদ প্রশাসক একেএম আহসানুল তৈয়ব জাকির, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফজলুল বারি তালুকদার বেলাল, জেলা মোটর শ্রমিক ইনিয়নের সভাপতি আব্দুল হামিদ মিটুল, সাধারণ সম্পাদক মোঃ সামছুজ্জামান প্রমুখ।
এছাড়া বগুড়া মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন, ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়ন, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন, স্বর্ন শ্রমিক ইউনিয়ন, দর্জি শ্রমিক ইউনিয়ন, হোটেল শ্রমিক ইউনিয়ন, সংবাদ পত্র হকার শ্রমিক ইউনিয়ন, গৃহ নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়ন, জেলা হোটেল ও রেঁস্তরো শ্রমিক ইউনিয়ন ও নেসকো জাতীয়তাবাদী শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন পৃথকভাবে র্যালি, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং শ্রমিকদের মাঝে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করে।
এছাড়াও শ্রমিকদের জন্য বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা ও খাবার বিতরণের ব্যবস্থাও করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে বগুড়ার বিভিন্ন এলাকায় আনন্দঘন পরিবেশ বিরাজ করে এবং শ্রমজীবী মানুষের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়।